সম্মানিত সহকর্মী প্রফেসর আলমগীরের সঙ্গে যৌথভাবে রচিত ‘স্কুলে এআই: শিক্ষা, পরিবার ও কমিউনিটির জন্য উন্নত ভবিষ্যৎ নির্মাণ’ বইটি অতি শীঘ্রই প্রকাশিত হতে যাচ্ছে, এবং বর্তমানে মুদ্রণ প্রক্রিয়া চলমান। জানামতে এটি বাংলাদেশের মাধ্যমিক শিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে প্রথম বই। আশা করা যায়, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড মাধ্যমিক পর্যায়ের তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষায় অতিরিক্ত রিসোর্স হিসেবে বইটি ব্যবহারে বিদ্যালয়গুলোকে উৎসাহিত করবে। ভবিষ্যতে এটি সংশোধিত আকারে পাঠ্যবই হিসেবেও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) আবির্ভাব শিক্ষা জগতে এক বৈপ্লবিক যুগের সূচনা করেছে, যা প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে স্কুল, পরিবার ও সম্প্রদায়কে অভূতপূর্বভাবে ক্ষমতায়িত করতে পারে। বইটি এআই-নির্ভর বিশ্বে শিক্ষার ভূমিকা পুনর্নির্ধারণের দিশাসূচক, যেখানে এআই কেবল একটি টুল নয় বরং একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের অংশীদার। শেখার ব্যক্তিগতীকরণ, শিক্ষাদান কৌশল উন্নয়ন, সমাজগত সমস্যা সমাধান ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন—সবকিছুতেই এআই আমাদের এমন এক ভবিষ্যতের দিকে আহ্বান জানায়, যেখানে স্কুল হবে উদ্ভাবনের কেন্দ্রবিন্দু এবং প্রযুক্তি ও মানব সৃজনশীলতা পরস্পরের পরিপূরক হয়ে অগ্রসর হবে। এই বইয়ে স্পষ্টভাবে দেখানো হয়েছে কীভাবে শিক্ষক পাঠ্যক্রমে এআই অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন, শিক্ষার্থীরা কীভাবে এআই-এর সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারেন এবং কমিউনিটি কিভাবে একত্রিত হয়ে সমস্যা সমাধানে এআই ব্যবহার করতে পারে। সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা, বাস্তব উদাহরণ ও অনুশীলনের মাধ্যমে পাঠকরা শুধু এআই সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনই করবেন না, বরং দৈনন্দিন জীবনে এর সুফল প্রয়োগের দক্ষতাও রপ্ত করবেন। তাই এআই-এর এই অভিযাত্রায় আপনাকে আমন্ত্রণ জানাই—এআই’র সম্ভাবনাগুলি অন্বেষণ করে প্রচলিত ধারণাকে প্রশ্ন করুন এবং এআই-এর রূপান্তরমূলক শক্তিকে গ্রহণ করুন, যেন আমরা একসঙ্গে এমন একটি ভবিষ্যৎ গড়তে পারি যেখানে প্রযুক্তি মানুষের কল্যাণে নিযুক্ত থাকবে সহমর্মিতা, ন্যায়পরায়ণতা ও সৃজনশীলতার আলোকে।


Discover more from LK INNOVATE

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a comment

Trending

Discover more from LK INNOVATE

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading